পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এক ভয়াবহ ঘটনায়। পশ্চিমবঙ্গের BJP বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। ৪ঠা মে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এখনও সরকার ঘোষণা হয়নি, সম্ভাবত শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হবেন কিন্তু এর আগেই ৬ মে শুভেন্দু অধিকারীর PA চন্দ্রনাথ রথ গুলি করে খুন করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যে তুমুল উত্তেজনা ও নানান প্রশ্ন উঠছে? পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও কৌতূহল।
- কে এই চন্দ্রনাথ রথ?
- কেন তাঁকে টার্গেট করা হলো?
- এর পেছনে কি শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি রয়েছে বড় কোনো রাজনৈতিক রহস্য?
কে চন্দ্রনাথ রথ? Who is Chandranath Rath | শুভেন্দু অধিকারীর PA চন্দ্রনাথ রথ কে ছিলেন?
Chandranath Rath: চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলাতেন তিনি। দলীয় মহলে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরিশ্রমী ব্যক্তি এবং শুভেন্দু অধিকারীর খুবই কাছের মানুষ ছিলেন। বিজেপি রাজ্যে জয় হয়েছে এর মধ্যেই এই ঘটনা শুভেন্দু ও দলকে মর্মান্তিক করে তুলছে।
কে এই চন্দ্রনাথ রথ?
জানা যায়, তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার কাজ করেছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন সভা, কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চন্দ্রনাথ রথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলেই জানা যায়।
চন্দ্রনাথ রথ কে? নিচে এই ব্যাক্তির সম্পর্ক তুলে ধরা হল -
- চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী ও আপ্তসহায়ক(PA)।
- বয়স ছিল প্রায় ৪১ বছর।
- বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।
- রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ছিলেন।
- স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন।
- একসময় আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
- ভারতীয় বায়ুসেনায় (IAF) প্রায় ২০ বছর কর্মরত ছিলেন।
- পরে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে কর্পোরেট সেক্টরেও কাজ করেন।
- অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক প্রায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো।
- তাঁর মা হাসি রথ স্থানীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
- ২০১৯ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কোর টিমে কাজ শুরু করেন।
- ২০২০ সালে শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন।
- বিজেপির সাংগঠনিক কাজ ও প্রচার কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
- পর্দার আড়ালে থেকে রাজনৈতিক রণকৌশল তৈরি করতেন।
- ভবানীপুর উপনির্বাচনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
- সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
- শান্ত, সংযত ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- বায়ুসেনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনের কাজ সামলাতেন।
- রাজনৈতিক মহলে তাঁকে শুভেন্দু অধিকারীর “বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী” বলা হতো।
- মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন।
কীভাবে ঘটলো এই ঘটনা? চন্দ্রনাথ রথ খুন কিভাবে হয়?
মুধবার ৬ মে ২০২৬, সারাদিন কাজ শেষে রাতের দিকে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ ও তার ড্রাইভার। রাত্রি প্রায় ১০:২০ মিনিট নাগাদ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই আচমকা একটি গাড়ি সামনে দাঁড়ায় ও বাইকে করে আসা আততায়ীরা তাঁর গাড়ির কাছে এসেছে গুলি চালায়, গুলি লাগে তাঁর বুক ও শরীরে এবং ড্রাইভারও আহত হয়।হামলাকারী সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালায়। হামলার শিকার চন্দ্রনাথ রথকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। গাড়ির কাচ ফুটো হয়ে তারপর চন্দ্রনাথের শরীতে লাগে।
তদন্তে নকল নম্বর প্লেট ব্যবহার ব্যবহার করেছিল দুষ্কৃতীরা এবং বাইকে করা দুষ্কৃতী দুইদিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।
কেন তাঁকে টার্গেট করা হলো?
এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে— তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সহকারীকে লক্ষ্য করে হামলা হওয়ায় ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী নিজে সাংবাদিকদের জানায় ' এটি পরিকল্পিত ঠান্ডা মাথায় করা খুন, এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত যারা তাদেরকে চিন্নিত করার কাজ এতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং শুভেন্দুকে আশা দিয়েছে পুলিশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা পেয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু শুধুমাত্র একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, এটি এখন রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ কী, কারা এর পেছনে রয়েছে এবং তদন্তে কী উঠে আসে— এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের মানুষের ।
ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষও। এই নিয়ে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন কমেন্ট বক্স এ।

কোন মন্তব্য নেই